ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার সাক্ষী চীন-জার্মানি

তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ের যতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সবগুলোর সাথেই নিবিড়ভাবে জড়িত জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা।

বিজ্ঞানীরা জলবায়ু পরিবর্তন আর এর ভয়াবহতা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে সতর্ক করে আসলেও মানুষের মধ্যে এ নিয়ে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। পরিবেশ রক্ষার পরিবর্তে উল্টো পরিবেশ দূষণ নিয়ে ব্যস্ত মানুষ। গাফিলতির ফলশ্রুতিতে, চলতি বছর রেকর্ড ছাড়িয়েছে উত্তর আমেরিকার তাপমাত্রা। দাবানলে পুড়ছে বন।
স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় ভাসছে জার্মানি। কিছুদিন ধরেই তাই পশ্চিমা বিশ্বে শিরোনাম এই জলবায়ু পরিবর্তন। জলবায়ু পরিবর্তন যে কতো ভয়াবহ হতে পারে, এটা টের পেয়েছে চীনও। দেশটির হেনান প্রদেশে রেকর্ড বৃষ্টিপাত হয়েছে, যেখানে হাজার বছরে একবার এখানে এতো বৃষ্টিপাতের নজির আছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ। আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ১৯ কোটি ডলার।
নড়েচড়ে বসে এখন সব দেশই বলছে, ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের পেছনের কারণ জলবায়ু পরিবর্তন। অসতর্কতার কারণে জলবায়ু পরিবর্তন যে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত বিজ্ঞানীরা। বিভিন্ন অঞ্চলে খরা বাড়ছে, শীত মৌসুমের সময়কাল কমছে। দাবানলে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে একরের পর একর বন। যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হচ্ছে, সেটাই আগের চেয়ে অনেক ভয়াবহ হচ্ছে। কারণ পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে, পানির উষ্ণতা বাড়ছে, বায়ুমণ্ডলে বেশি পানি বাষ্পীভূত হচ্ছে।

জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড মেটেওরোলজিক্যাল সংস্থা বলছে, এসব দেশের বিপর্যয়গুলো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ছাড়া অন্য কিছুই না। 

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই দশকের শেষের দিকে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। এখনকার সময়ের চেয়ে ১৪ গুন বেশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হবে তখন। খুব অল্প সময়ের মধ্যে এতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা। প্রকৃতিকে সমতা নেই, যেটার একমাত্র কারণ মানুষ। 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *